একদা একাত্তর- সুখ দুঃখের ঝাঁপি
লেখক – সন্ধ্যা রায় সেনগুপ্ত
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ – সোমা সুরভী জান্নাত
সম্পাদনা – সুমেরু মুখোপাধ্যায়, সামরান হুদা
শিল্পনির্দেশনা – সায়ন্তন মৈত্র
শিরোনামলিপি- পার্থ দাশগুপ্ত
বই নকশা – ময়াঙ্ক রাই
পৃষ্ঠা –২২৪
ডিমাই সাইজ, হার্ড বাউন্ড, কাপড়ে বাঁধাই
মূল্য – ৩৫০ ভারতীয় টাকা
ISBN – 978-93-87577-03-9

অনলাইন কিনতে –
বইচই ও থিংকারস লেন ডট কম































কোনও কোনও মানুষের জীবন ছিন্ন মুকুরে আঁকা। টুকরোগুলো টুপটাপ ঝরে পড়ে অলক্ষে। স্মৃতির যেমন কাজ ও কারুকার্য। এক সময় গোটা জীবনটাই হয়ে পড়ে জোড়াতালির। বরিশালের রুণসীতে প্রাথমিক শিক্ষার পরে আর যে মেয়েদের পড়ার সুযোগ ছিল না, সেটাই তাকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াল সারা জীবন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন অনুবাদ করলেন, ‘রেড বুক’ ফলে যা হয় নিজের নামও তুলে ফেললেন সর্বহারাদের দলে। বরিশাল উইমেন্স কলেজে অধ্যাপনা শুরু করতেই দেশ তখন অশান্ত। ক্লাস আর নিয়মিত হয় না, শুরু হয়ে গেছে হিন্দুদের নিধন ও লাঞ্ছনাযজ্ঞ।

সবাই পালাচ্ছে শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে জঙ্গলে। কেউ সারা দিন পুকুরে ঢুবে বসে থাকেন, সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে দু’মুঠো অন্ন জোটে কি জোটে না, কেবল খবর পান মৃত্যু ও নৃশংসতার। সে তালিকা ক্রমশ বাড়ে, স্মৃতিরা ভারাক্রান্ত হতে থাকে। শেখ মুজিব আওয়াজ দিলেন, সকলকে যুদ্ধে যেতে হবে, যার কাছে যা আছে তাকেই করে তুলতে হবে অস্ত্র। শিক্ষাই তাঁর হয়ে উঠল অস্ত্র। একটি মুক্তিযোদ্ধা দলের সংকেত লেখা ও হিসাবরক্ষার কাজে নিয়োজিত হলেন তিনি এই অসমযুদ্ধে।

কিছুদিন অন্তরই পালটে ফেলতে হয় এলাকা। থাকেন নানা আস্তানায়, বিবাহিতের পরিচয়ে, থাকেন নানা অভাবী পরিবারে মিলে মিশে। বাড়ির খবর পান না ঠিক মতো, ভাসা ভাসা খবর আসে চিরকুট বাহিত হয়ে। এই সমস্ত চড়াই উৎরাই বেয়ে স্বাধীনতা আসে একদা। জন্ম হয় নতুন এক দেশের—বাংলাদেশ। তাঁর ঠাঁই হল না সেই দেশে। সারা দেশে তখন অরাজকতা। ক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু হয়েছে। দালাল-খুনি-ধর্ষকেরা ভেক পালটে ভিড়ে যাচ্ছে মূল স্রোতে। সকলের হাতে হাতে অস্ত্র। তাদের তিন ভাই-বোনকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের আশ্রয়ে থাকা লোকজন। মেরেও তো ফেলছে এমন অনেককে আকছার। এবার কোথায় পালাবেন? তাকে চিহ্নিত করা হল ‘সর্বহারা পার্টি’র হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী রূপে। স্বাধীনতা নামক হলাহলে ওষ্ঠ রঞ্জিত করে দেশ ছাড়লেন সন্ধ্যা রায়।

সন্ধ্যা রায় সেনগুপ্ত

জন্ম ১৯৪৬ সালে বরিশালের রুণসীতে। বিদ্যালয়ের পড়াশোনা বরিশালে। ১৯৬১ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। স্নাতক স্তরের পড়াশোনা ফজলুল হক কলেজ চাখার থেকে, ১৯৬৫। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (১৯৬৭-৬৮) অর্থনীতিতে স্নাতোকত্তর শেষে যোগদান বরিশাল উইমেন্স কলেজে (১৯৬৮-১৯৭২)।

একদা সহপাঠী মিহির সেনগুপ্তের সঙ্গে বিয়ের পর ভারতে চলে আসেন। শিক্ষকরূপে যোগদান সত্তরের শুরুতে পোলবা গার্লস স্কুলে। ২০০০ সালে ভদ্রেশ্বর ধর্মতলা গার্লস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা।

অবসর জীবনে বই পড়া একমাত্র শখ।