গোল্লাছুট
লেখক – কাশীনাথ ভট্টাচার্য
প্রচ্ছদ– পার্থ দাশগুপ্ত
গ্রাফিক্স- শঙ্কর সরকার
ফোটোগ্রাফ- রনি রায়, সন্দীপ দত্ত, কাশীনাথ ভট্টাচার্য
সম্পাদনা – প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
শিল্পনির্দেশনা – সায়ন্তন মৈত্র
বই নকশা – ময়াঙ্ক রাই
অতিরিক্ত সংযোজন- বানান নিয়ে, তথ্যঋণ
পৃষ্ঠা – ৪৬৪
ডিমাই সাইজ, হার্ড বাউন্ড, কাপড়ে বাঁধাই
মূল্য – ৬০০ ভারতীয় টাকা
ISBN – 978-81-934397-3-9



অনলাইন কিনতে –
অ্যামাজন ইন্ডিয়া
বইচই































এ প্লাস বি হোল স্কোয়ার, মানে এ স্কোয়ার প্লাস টু এবি প্লাস বি স্কোয়ার। বিশ্বের যে কোনও স্কুলে সেভেন-এইট পড়েছে যে, জানে। বিশ্বজনীন। জাপান-জার্মানি-জাম্বিয়া, এমনকি জলপাইগুড়িতেও, এক। কিন্তু, কোনও দিন স্কুলের দরজা পেরয়নি যে? সে-ও জানে, কাকে বলে তিনকাঠি। পেছনে থাকে মায়াজাল। পায়ের বলটাকে জড়িয়ে দিলে সেখানে, ঘটে ইন্দ্রজাল। বল চামড়ার হোক, কাপড়ের, সিন্থেটিক, কিংবা কুটিকুটি কাগজ জড়িয়ে কুটির শিল্প অথবা নেহাত বাতাবি লেবু, কী আসে যায়! খোলা-ঘেরা মাঠ, উঁচু-নিচু সমতল-অসমতল এবড়োখেবড়ো সব জমিতেই এক নিয়ম। এতটাই ইউনিভার্সাল যে ‘এ প্লাস বি হোল স্কোয়ার’ও পাত্তা পায় না।

পায়ের সামনে গোলাকার কিছু পেলে বাচ্চা পা ছোড়ে। এতটাই স্বাভাবিক, সহজাত। আলাদা বলতে হয় না। শট। দিক্‌বিদিক হারিয়ে গড়িয়ে যায় আনন্দ। পায়ে পায়ে আনন্দ। এর ভাল নাম ফুটবল! সেই আনন্দই তাড়িয়ে বেড়ায় কোন খ্যাপা। আলফ্রেদো দিস্তেফানো, ফেরেঙ্ক পুসকাস, পেলে, ইউসেবিও, জোহান ক্রুয়েফ, দিয়েগো মারাদোনা, রোমারিও, রোনালদো, জিনেদিন জিদান, লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোরা বই আলো করে যেমন আছেন, পাশাপাশিই আছেন হারবার্ট চ্যাপম্যান, ভিত্তোরিও পোজো, বেলা গুতমান থেকে আজকের পেপ গারদিওলা। ফুটবল কৌশলের বিশদ বিবরণ, সময় সারণি বেয়ে। হরেক লড়াই এর রূপকথা আর বুদ্ধির মার-প্যাঁচের অচেনা হাতের তালু আর পায়ের যাদু এবার এক মলাটে। এই বই খেলতে শেখায়, দেখতে শেখায়, পড়তে শেখায়। আনন্দের মাঝে বিষাদ আসে, জীবনের মতো। ক্ষমতার দম্ভ থাকে, অক্ষমতারও। রাজনীতির কুটিল-করাল ছায়া ‘ঘনাইছে’ মাঠে মাঠে। তবু, প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে মোরে আরও আরও আরও দাও ‘পাস’।‘গোল্লাছুট’ আসলে একটা পাস। বাড়িয়ে দেওয়া, বেখেয়াল। ‘রাখাল’ রোনালদিনিওর মতো। ধরলে, গোলমুখ খুলে যাওয়ার আনন্দ!

কাশীনাথ ভট্টাচার্য

নিজেকে ফুটবলের তীর্থযাত্রী ভাবেন কাশীনাথ ভট্টাচার্য।

ডায়নামো মস্কো ক্লাবে লেভ ইয়াসিনের মূর্তির পেছনে শিল্পীর ভাবনায় গোলপোস্ট ত্রিভুজাকৃতি। একা একাই দেখতে গিয়ে মুগ্ধ দর্শক। সানতোসে পেলে মিউজিয়াম চার-তলা। এক-একটি তলায় পেলের খেলা এক-একটি বিশ্বকাপের গল্প। পড়তে-পড়তে নেমে-আসা মাটিতে। মারাকানোজো দেখা সম্ভব ছিল না, মিনেইরাওজো দেখেছিলেন প্রেস বক্সে বসেই। ১-৭, ব্রাজিলের দুঃস্বপ্নের সাক্ষী বেলো ওরিজোন্তে-তে।

ফুটবল নিয়ে পড়াশোনা, দেখা এবং লেখাই প্যাশন। মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল-যুবভারতী, কাঞ্চনজঙ্ঘা-কোচি হয়ে লুঝনিকি-মারাকানা, ফুটবল-সফর চলছে। বাঙালি একমাত্র সাংবাদিক হিসাবে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল ‘কভার’ করেছেন ‘অ্যাক্রিডিটেড জার্নালিস্ট’ হয়ে, মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে, যেখানে হবে ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালও। ‘কভার’ করেছেন ২০১৪ সালে ফিফা বিশ্বকাপ, ব্রাজিলে, ফলত ফুটবলের তীর্থদর্শন।

‘গোল্লাছুট’ দ্বিতীয় বই তাঁর। ‘বিশ্বকাপ ফুটবল’-এর পর এবার পাঠকদের সামিল করেছেন ফুটবলেরই আনন্দযজ্ঞে।