জীবন-মৃত্যু – প্রথম খণ্ড
লেখক — অসীম রায়
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ— কুশল রায় ও পার্থ দাশগুপ্ত
সম্পাদনা – রবিশংকর বল ও কুশল রায়
ফোটোগ্রাফ- সুব্রত পত্রনবীশ, কুশল রায়, অর্ক রায়
শিল্পনির্দেশনা – সায়ন্তন মৈত্র
বই নকশা – ময়াঙ্ক রাই
পৃষ্ঠা – ৪০৮
রয়াল সাইজ, হার্ড বাউন্ড, কাপড়ে বাঁধাই
মূল্য – ৬০০ ভারতীয় টাকা
ISBN – 978-81-934397-1-5

অনলাইন কিনতে –
অ্যামাজন ইন্ডিয়া
বইচই










জীবন-মৃত্যু – দ্বিতীয় খণ্ড
লেখক — অসীম রায়
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ— কুশল রায় ও পার্থ দাশগুপ্ত
সম্পাদনা – রবিশংকর বল ও কুশল রায়
ফোটোগ্রাফ- সুব্রত পত্রনবীশ, কুশল রায়, অর্ক রায়
শিল্পনির্দেশনা – সায়ন্তন মৈত্র
বই নকশা – ময়াঙ্ক রাই
অতিরিক্ত সংযোজন- অসীম রায়ের পঞ্চাশতম জন্মদিন উপলক্ষ্যে প্রকাশিত পুস্তিকা
পৃষ্ঠা – ৪২০
রয়াল সাইজ, হার্ড বাউন্ড, কাপড়ে বাঁধাই
মূল্য – ৬০০ ভারতীয় টাকা
ISBN – 978-81-934397-0-8

অনলাইন কিনতে –
অ্যামাজন ইন্ডিয়া
বইচই































জীবন-মৃত্যু

প্রথম খণ্ড

এ আশ্চর্য মায়ামুকুর, যাতে ধরা আছে স্বাধীনতাপূর্ব অখণ্ড বাংলা থেকে কম্যুনিস্ট শাসনের পশ্চিমবাংলার চালচিত্র। এর শুরু একটি বালিকার শিশুকাল থেকে, এবং এই খণ্ডে ধরা আছে তাঁর যৌবনকালটুকু, আশা, স্বপ্ন ও প্রতিশ্রুতি। দেশ-কাল-সময়-সমাজ-সংস্কৃতিকে বিশ্লেষণ ও যুক্তির ধারালো স্ক্যালপেলে ফালি ফালি করে কেটে ছানবিন করেছেন অসীম রায়। বাদ দেননি নিজেকেও, অহং ও ষড়রিপুর রঙিন আবরণ সরিয়ে নিজেকে খড়মাটিতে দেখতে চাইবার এক অসম্ভব উপাখ্যান এই বই। আত্মউন্মোচনের হাওয়ামোরগ।

বিষ্ণু দে থেকে সমরেশ বসু, প্রকাশ কর্মকার থেকে যামিনী রায়, ইন্দিরা গান্ধী থেকে জ্যোতি বসু, টমাস মান থেকে পাবলো নেরুদা এই দুস্তর পথে অনায়াস চলাচলের এই কাহিনি আসলে এক প্রেমের গল্প। এ গল্প এক তরুণ আর তাঁর অসমবয়েসী বন্ধুর মায়ের দুস্তর প্রেম এক। এ গল্প প্রেমিকার হাতে সুড়সুড়ি দেওয়া ঘাসের ডগাটির। এ গল্প গীতার, এ গল্প অসীমেরও। এ গল্প মেঘলা দুপুরে ছাদে উড়ে আসা ময়ূরের গলার যাদুকরী নীল, যা মোহাঞ্জন পরিয়ে রাখে তরুণী মা আর শিশুটিকে। এক তরুণ ঘোড়সওয়ারের ঝড়ো অভিযানের, জনঅরণ্যে কেবলই খুঁজে ফেরে তাঁর নিজস্ব গল্প, বুনে তুলতে চায় তাঁর একান্ত শব্দের খাঁচা এক। এ গল্প তাই আমাদেরও। আত্মবীক্ষণের যন্ত্র এক। মিলিয়ে দেখতে হয় রক্তের অন্তর্লীন অসুখ ব্যক্তিগত।

দ্বিতীয় খণ্ড

যে জেগে ঘুমোয়, তার ঘুম সহজে ভাঙে না। রিখিয়ার এলোমেলো ল্যান্ডস্কেপে প্রবাসী বাঙালির ইতিহাসের মতো ইতিউতি ওড়ে সুখের ছুটির দিন, মুরগির মাংসের সুবাস। সঙ্গে চলতে থাকে ভারতবর্ষে বামপন্থার ব্যর্থতার কড়াকিয়া-গণ্ডাকিয়া। কলকাতায় বারাসাতে বরানগরে হাজার হাজার মেধাবী ছাত্ররা খুন হয় রাষ্ট্রশক্তির হাতে। আবছা হয়ে আসে বিপ্লবের ট্রামের শিষ। লাল পতাকা ওড়ানোর ঝড়োদিনগুলি আরও লাল হয়ে ওঠে পার্টির অন্তর্দ্বন্দ্বে, ভ্রাতৃহত্যায়। সংগৃহীত খবরের ভারে বিধ্বস্ত হন কথাকোবিদ। তিনি ক্রান্তদর্শী, তাই জানেন জেগে ঘুমোচ্ছে যে জনপদ, তার ঘুম সহজে ভাঙবে না।

তবুও বদল আসে জীবনযাত্রায়। করুণাধারায় ধেয়ে আসে আরও একটি ভ্রমর, বিস্তৃত বসন্ত ও পুঞ্জীভূত প্রেম। আঘাটায়, মালখালাসী লরির ভিড়ে তাকেও ডেকে ওঠা ‘গীতা’ বলে। এ আবর্তে আশির শুরুতে কেবল তাঁর চারপাশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রিয়জনেরা। পোষা কুকুর অনি, তাঁর মাস্টারমশাই, সুহৃদ বিষ্ণু দে, দীপেন বন্দোপাধ্যায়, অকৃত্রিম এক পাঠক রানা ঘোষ। গালিবের পত্রাবলীর মতো তাঁর লেখালিখিতেও ক্রমশ নায়ক হয়ে দাঁড়াচ্ছে মৃত্যু, হ্যাঁ এবং মৃত্যুই। এই মহাকাহিনির শেষ তাঁর স্ত্রী গীতার মৃত্যুতে, যা প্রকারান্তরে তাঁর আত্মারই মৃত্যু।

ট্রাজেডি জানতে সফোক্লিস না পড়লেও চলে। জীবনের কোনাকানাচে প্রতিনিয়ত যে ট্রাজেডির অভিনয় হয়ে চলেছে “বন্ধু হে আমার, রয়েছ দাঁড়ায়ে” বলে তাকে চোখ ঠারা কঠিন। ‘একালের কথা’ থেকে যে ঔপন্যাসিকের যাত্রা শুরু, তিনি বারবার তাঁর নিজেরই জীবন সেঁচে লিখেছেন ‘রক্তের হাওয়া’ বা ‘গোপালদেব’। এ যাবৎ অপ্রকাশিত তাঁর শেষ এই গ্রন্থ আসলে এক সোয়ান সং, মরণোন্মুখ রাজহাঁসের শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত। বামপন্থী, রবীন্দ্রানুরাগী, টমাস মানের মুগ্ধ পাঠক, বাংলা সিরিয়াস সাহিত্যধারার মহারথী অসীম রায় তাঁর এই বই শেষ করছেন “গীতা রায় জিন্দাবাদ” বলে, প্রকারান্তরে যা জীবনেরই জয়গান। এই বই আসলে বাঙালির বৌদ্ধিক চর্চার ইতিহাস। ষাটের দশক, সত্তরের দশক ও আশির দশকের জটিল মননের রাজনীতি। এই বই ভাবতে শেখার পাঠশালা, পায়ে হেঁটে পৃথিবী দেখার কেডসজুতো।

প্রগাঢ় মমতায় এই মহাগ্রন্থ দুটি খণ্ডে সম্পাদনা করেছেন, সাজিয়েছেন একালের অবিসংবাদী কথাশিল্পী রবিশংকর বল। সঙ্গী অসীমপুত্র কুশল। বার বার ফিরে আসার এক সাড়ে তিনহাত ভূমি এই মহাগ্রন্থ, এ কেবল এক আশ্চর্য শুরুয়াৎ।

 

 

অসীম রায়

জন্ম ৯ই মার্চ, ১৯২৭, বরিশালের ভোলায়। বাবা ভবেশ চন্দ্র রায়, মা জ্যোৎস্না দেবী। ১৯৪৬ এ প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ স্নাতক। ১৯৪৮এ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম এ স্বর্ণপদক সহ। কর্মজীবনে সাংবাদিকতাই মুখ্য এবং স্টেটসম্যান কাগজে। সহধর্মিনী গীতা বসু। প্রথম বইয়ের নাম নবমল্লিকা। কবিতার বই, প্রকাশিত হয় ১৯৪৩ এ।

উপন্যাস হিসেবে উল্লেখযোগ্য—একালের কথা, গোপাল দেব, দ্বিতীয় জন্ম, রক্তের হাওয়া, দেশদ্রোহী, শব্দের খাঁচায়, অসংলগ্ন কাব্য, গৃহযুদ্ধ, অর্জুন সেনের জিজ্ঞাসা, একদা ঈষিতা, পলাশী কতদূর, নবাববাঁদী, আবহমানকাল।

এছাড়াও লিখেছেন কবিতা, ছোটগল্প, নাটক, জার্নাল ও আরও অনেক উপন্যাস। স্ত্রীর মৃত্যুতে ভগ্নহৃদয়, নিভৃত ও আত্মমগ্ন অসীম রায় মারা যান ১৯৮৬র ৩ এপ্রিলে।