তৃণ
লেখক – রতন ভট্টাচার্য
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ – ভাস্কর হাজারিকা
সম্পাদনা – রঞ্জন ভট্টাচার্য
শিল্পনির্দেশনা – সায়ন্তন মৈত্র
বই নকশা – ময়াঙ্ক রাই
পৃষ্ঠা – ৪৫৬
ডিমাই সাইজ, হার্ড বাউন্ড, কাপড়ে বাঁধাই
মূল্য – ৬০০ ভারতীয় টাকা
ISBN – 978-93-87577-24-4

অনলাইন কিনতে – বইচই বা থিংকারস লেন
































দেশভাগের পর পূর্ববঙ্গের বহু ছিন্নমূল বাঙালি পরিবার ভারতবর্ষের অন্যান্য জায়গার মতো আসামেরও বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। কার্যত বারো-তেরো বছরের মধ্যেই তাঁদের জীবন আবার ভরে উঠল অনিশ্চয়তায়। ৬০ সালে শুরু হল ‘বাঙালি খেদা’ আন্দোলন। প্রথমবারের ধাক্কা সামলে উঠলেও, আসামের বাঙালি জীবনকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেল এক বিশাল প্রশ্নচিহ্নের সামনে। উজানি আসামের ছোট একটি শহরের চক্রবর্তী পরিবারের জীবনও চলতে লাগল সেই প্রশ্নচিহ্নকে মনের মধ্যে ধারণ করে। ১৯৭১-৭২সালে ‘ভাষা বিল’-কে কেন্দ্র করে তীব্র আকার নিল বাঙালি বিদ্বেষ। সেই বিদ্বেষের আগুনে পুড়ে গেল চক্রবর্তী পরিবারের ঘর-সংসার। মাত্র বাইশ বছরের মধ্যে আবার পথ হয়ে উঠল তাদের অনিশ্চিত জীবনের বাসভূমি। ১৯৭২-এ চক্রবর্তী পরিবার স্থায়ী বাসভূমির যে অন্বেষণ শুরু করেছিল তা আজও চালিয়ে চলেছে আসামে ঠাঁই নেওয়া উদবাস্তুরা। সারা বিশ্বের অগনিত উদ্বাস্তু মানুষের শূন্য হৃদয়ের শব্দ-ছবি এই বই।

রতন ভট্টাচার্য

জন্ম ৪ শ্রাবণ ১৩৪০ (১৯৩৩)। কৈশোর কেটেছে পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলার এক গ্রামে। ক্লাস এইটে যখন, তখনই দেশভাগ। চলে এলেন এপার বাংলায়— হাওড়ার সালকিয়ায়। মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজ থেকে বিএ। বাংলায় স্নাতকোত্তর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যৌবনের সূচনায় যুক্ত থেকেছেন বিভিন্ন পেশায়— বাস কন্ডাক্টরি থেকে রেশন দোকানে খাতা লেখার কাজ। শেষ পর্যন্ত থিতু হয়েছেন শিক্ষকতায়।

জীবনের প্রথম গল্প ‘পিঞ্জর’, ছাপা হয়েছিল ‘দেশ’ পত্রিকায়। একটি গল্পেই রাতারাতি বিখ্যাত। সে ১৯৫৮-৫৯সালের কথা। তার পর দীর্ঘ ১৫ বছর স্ব-ইচ্ছায় অজ্ঞাতবাস। লেখালেখি বন্ধ। তাঁর নিজের কথায় এর কারণ অতৃপ্তি। ১৯৭৮সালে আবার কলম ধরলেন— দেশ পত্রিকায় লিখলেন গল্প ‘তৃতীয় মহাযুদ্ধ’। একটানা ১৯৯৩সাল পর্যন্ত লিখলেন অজস্র গল্প— সমুদ্র, রাজার এঁটো, ক্রীতদাসীর স্বাধীনতা, জন্মদিন ইত্যাদি। ছোটগল্পের তুলনায় রতন ভট্টাচার্য উপন্যাস লিখেছেন খুবই কম। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘স্বপ্নের পুরুষ য় জিপগাড়ি’। আবার লেখার জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন। ৫ আশ্বিন ১৪১৩ (২০০৬) প্রয়াত হলেন রতন ভট্টাচার্য।

১৯৯৩ সালের জুন মাস থেকে ‘পাক্ষিক বসুমতী’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পেতে শুরু করে ‘তৃণ’। কিন্তু কয়েকটি সংখ্যা প্রকাশের পরেই নভেম্বর মাসে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।