দিগন্তদীঘির
লেখক – সীমা গঙ্গোপাধ্যায়
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ – প্রণবেশ মাইতি চিত্রিত
সম্পাদনা – সামরান হুদা
শিল্পনির্দেশনা – সায়ন্তন মৈত্র
বই নকশা – ময়াঙ্ক রাই
পৃষ্ঠা –১৩৬
ডিমাই সাইজ, হার্ড বাউন্ড, কাপড়ে বাঁধাই
মূল্য – ২৫০ ভারতীয় টাকা
ISBN – 978-93-87577-40-4

অনলাইন কিনতে – বইচই বা থিংকারস লেন
































শহরের থাবায় দিশেহারা হয়ে পড়ে জনপদ। কলকাতা বিমানবন্দরের গায়ে গোপালপুর হাউসের আশেপাশে অনেক আদিবাসীদের বাস। এয়ারপোর্টের ভিতরের হারানো জমিতে ধানচাষ করে তারা। ধানকাটা সারা হলে নেশা করে দিন কাটায় সহজিয়া মানুষজন। বিয়ের পর এখানেই গড়ে ওঠে সীমার সংসার। তাই এই বই জুড়ে আছে বিমানের অজস্র ওড়াওড়ি, প্রতি মুহূর্তে শব্দে যেন ভেঙে পড়ে আকাশ। একদিন ঘটে তা, বিমান উড়ে গেলে রয়ে যায় শব্দের রেশ। এক মাত্র সন্তান দীঘিরের চলে যাওয়ার কর্কশ শূন্যতা কখনও অতিক্রম করতে চাননি সীমা। পুঞ্জে পুঞ্জে লিখেছেন জন্মদাত্রীর দিনলিপি। ছুটে গিয়েছেন সমব্যথী মানুষের সংসারে। ধীরে ধীরে ফিরে আসতে হয়েছে দৈনন্দিন জীবনের চিরাচরিত আবর্তে। দীঘিরের নামে গড়ে উঠেছে জনকল্যাণমূলক ট্রাস্ট, চক্ষু হাসপাতাল, স্বাস্থ্য শিবির, গ্রন্থাগার সহ প্রান্তিক মানুষের জন্য একের পর এক প্রকল্প। অসহায়ের নিশ্চিন্ত হাসি মলিন হতে দেয়নি দীঘিরের প্রাণ। প্রতিবেশী সাঁওতাল মহল্লার নিশ্চুপ মৃত্যুমিছিল থেকে শুরু করে স্বল্পায়ু জীব মার্জারদের অবলোকনকাহিনি। আবার প্রান্তিক মানুষের মৃত্যুচ্ছায়া অতিক্রম করে যাপনের একরোখা নিরলস পথচলতি ধারাভাষ্য এই বই। নিয়ত ঘনায়মান আঁধারের তন্নিষ্ঠ বিবরণের দিগন্তসীমা তাই রয়ে গেছে দীঘির নামক দিগন্তে আবদ্ধ।

সীমা গঙ্গোপাধ্যায়

জন্ম টাকীতে। লেখাপড়া জমিদার অধ্যুষিত বনেদি টাকীর গার্লস স্কুলে। তার পর টাকী গভর্নমেন্ট কলেজের পাঠ চুকিয়ে কলকাতা ইউনিভার্সিটির বাংলায় এম এ। স্বভাব অলস সীমাকে চাকুরি কখনও টানেনি। বিবাহসূত্রে পাকাপাকিভাবে চলে আসা কলকাতার উপকণ্ঠে। সময়ে আসে সন্তান দীঘির। আবার ব্যস্ততা, উদ্বেগে থাকে সময়। দু’হাজার চোদ্দোর দশ এপ্রিল দীঘিরের চিরিকালীন থেমে যাওয়ার খবর আসে। থেমে থাকেন না সীমা। শুরু হয় নতুন অধ্যায়। তিলে তিলে গড়ে ওঠে শোকগাথা―দীঘির কথা, জন্মদাত্রীর দিনলিপি। লেখার সঙ্গে যোগ হয় কর্মকাণ্ড। জনসেবার লক্ষ্যে গড়ে তোলেন ‘দীঘির গাঙ্গুলী ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’। নিয়োজিত আছেন সুন্দরবনের মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবায়। পাশাপাশি টাকীতে তৈরি করছেন চক্ষু হাসপাতাল। সুন্দরবন এখন তাঁর দ্বিতীয় ঘর। ‘দিগন্তদীঘির’ সীমার চতুর্থ বই।