রসনাস্মৃতির বাসনাদেশ – প্রথম খণ্ড
লেখক — কিন্নর রায়, ঝর্ণা বসু, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, প্রফুল্ল রায়, বিভাস চক্রবর্তী, মণিভূষণ ভট্টাচার্য, মনোজ মিত্র, সুজিৎ চৌধুরী, বাসুদেব ঘোষ, রাজা সরকার, সপ্তর্ষি বিশ্বাস, সীমা গঙ্গোপাধ্যায়,কুন্তলা মুখোপাধ্যায়, জয়িতা দাস, পারমিতা দাস, মনীষা রায়, মালবিকা গুহ মুস্তাফি, রণজিৎ দাশ, স্বাতী বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বাতী রায়, সোমা মুখোপাধ্যায়
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ— স্মারক রায় ও পার্থ দাশগুপ্ত
সম্পাদনা –সামরান হুদা, দামু মুখোপাধ্যায়
শিল্পনির্দেশনা – সায়ন্তন মৈত্র
বই নকশা – ময়াঙ্ক রাই
পৃষ্ঠা – ৩২৮
রয়াল সাইজ, হার্ড বাউন্ড, কাপড়ে বাঁধাই
মূল্য – ৬০০ ভারতীয় টাকা
ISBN – 978-81-934397-6-0

অনলাইন কিনতে –
অ্যামাজন ইন্ডিয়া
বইচই










রসনাস্মৃতির বাসনাদেশ – দ্বিতীয় খণ্ড
লেখক — মণীন্দ্র গুপ্ত, অমিতাভ মালাকার, আলপনা ঘোষ, কস্তুরী মুখোপাধ্যায়, ধৃতিকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী, মিহির সেনগুপ্ত, রঞ্জন রায়, সুনন্দা শিকদার, জয়ন্ত ঘোষাল, জাতবেদা মিশ্র, দিব্যজ্যোতি মজুমদার, বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য, মনীষা মুখোপাধ্যায়, রঞ্জন ঘোষাল, অমর মিত্র, প্রকৃতি বসু, বিপুল দাস, মানসী বন্দ্যোপাধ্যায়, রবিশংকর বল, রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সান্যাল, রূপঙ্কর সরকার ও সুব্রত সেন
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ— স্মারক রায় ও পার্থ দাশগুপ্ত
সম্পাদনা –সামরান হুদা, দামু মুখোপাধ্যায়
শিল্পনির্দেশনা – সায়ন্তন মৈত্র
বই নকশা – ময়াঙ্ক রাই
পৃষ্ঠা – ২৬০
রয়াল সাইজ, হার্ড বাউন্ড, কাপড়ে বাঁধাই
মূল্য – ৬০০ ভারতীয় টাকা
ISBN – 978-81-934397-7-7

অনলাইন কিনতে –
অ্যামাজন ইন্ডিয়া
বইচই































রসনাস্মৃতির বাসনাদেশ

মাঠে বনে ঘুরে বেড়ায় উদাস চঞ্চল হাওয়া, সপ্তডিঙা মধুকর ভেড়ে হৃদকমলের ঘাটে। এই ভাবেই তৈরি হয় প্রেমগাথা, হরেক রাখালি গান। আজও তরজার সুরে লেখা হয় কে ছিল জমিদার আর ভূমিহীন। অনাহূত তকমারা সেঁটে যায় একদা দেশভাগ হলে। লেখা হয়, ‘স্মৃতি সততই সুখের’, এভাবেই শল্যচিহ্ন মুছে যায়। অনাদরে পড়ে থাকা মাঠ-ঘাট, বয়ে যাওয়া জল গড়িয়ে মানুষেরা চলে যায় দেশান্তরে। বাংলা ভাগে পড়েছে প্রায় আট মরচের পরত। এ ভাবেই বুড়ো হয় ছেড়ে আসা বট, একাকী লক্ষ্মীপেঁচা উড়ে আসে। সেও বোঝে লিখে ফেলা দরকার, সাধারণ মানুষের একান্ত ইতিহাস। সব মুছে যাওয়ার আগে। তবু বিজনে বিরলে ধিরে ধিরে জেগে থাকে প্রবঞ্চক মাঠ-ঘাট, শষ্য-শ্যামল হাওয়া, একদা লাঞ্ছিত ভিটেমাটি। দেশ বুঝি ডাক পাঠায়, পঞ্চদশ ব্যাঞ্জনে সজ্জিত ভাতের থালা চলতে শুরু করে সপ্তপর্ণী কাছিমের ডাকে সাড়া দিতে। এভাবেই প্রাত্যহিক যাপনে উদ্বেল হয় উন্দাল-ভাবনা, বিস্মরণের কুয়াশায় বাতি জ্বালে ওদনসংস্কৃতির লাইটহাউস। স্মৃতির আনাচে-কানাচে ভাসে লাফা-ঘাঘরা শাকের কানাকানি, অস্তগামী ম্লান বেতফল উপমিত হয়ে থাকে বিষাদালাপী কবির কবিতায়। প্রবাসে স্মৃতি হাতড়ায় ভাজি-বিরানের ভক্ত, কারও সিদলবাটায় রঙিন হয়ে ওঠে মাধুকরীর অন্ন আবার কারও পাত সেজে ওঠে দশ পদ ভর্তায়। কেউ ঝাল বলতে বোঝেন স্রেফ লাল গোইয়ার চিত্রপট, কারও বা নিঃশর্ত সমর্পণ চই ঝালের কাছে।  আবার পিঠে নিয়েও কিস্‌সা আর কেচ্ছার ছড়াছড়ি! কোথাও ব্রতকথার চিতইচরিতে-ভাপা পিঠের দোসর বরিশালি গুড়-নারকেলের ছেঁই, আবার কোথাও দিগন্ত থাকে আমিষগন্ধী। মনকেমন গঞ্জের কোথাও ভর্তার পুর জঠরে বয়ে নিশ্চিন্ত পুলিপিঠেরা।

চুয়াল্লিশটি লেখা দুই খণ্ডে সম্পাদনা করেছেন সামরান হুদা ও দামু মুখোপাধ্যায়। এঁকেছেন স্মারক রায়, নাম লিখেছেন পার্থ দাশগুপ্ত। এই ভাবেই জোড়াতালি পড়েছে মাঠঘাটস্মৃতিপুকুরে। এক যে ছিল দেশ। এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি। এ হল নতুন করে বুনতে চাওয়া ইতিহাসের তর্জমা, উদ্বাস্তু স্বপ্ন-স্মৃতি পুনর্বাসন প্রকল্প—রসনাস্মৃতির বাসনাদেশ। এ আসলে ঘরে ফেরার গান। তাই এই সংকলন সকল খাদ্যরসিকের, এই সংকলন উদ্বাস্তুদের, এই সংকলন ব্জ্রাদৃষ্ট নাবিকের যে হারায়েছে দিশা।

 

৯ঋকাল বুক্‌স ভেবেছিল এমন এক প্রকল্পের কথা যেখানে বাঁধানো থাকুক হারিয়ে যাওয়া পুকুরঘাট, স্বপ্নের অনতিক্রম্যমাঠ, রাস্তাপাল্টানো নদীপথ, স্মৃতি সৌরভে পাড়া জাগানিয়া ধানচালগুলি। লেখা হোক এক বাসনাদেশের কথা, লেখা হোক অন্যচোখে ইতিহাস, চেখে দেখার কথা। কেউ শিলিগুড়ি কেউ ক্যালিফোর্নিয়া কেউ অশোকনগর কেউ বোকারো, ঘর, স্বপ্ন, ঘটি, মাটি হারানো মানুষেরা সহজেই গেঁথে তোলেন বহুদূরে ঘাই দেওয়া মাছগুলি, ছাইরঙা দেওয়ালে চুপ করে ঘোরানো সিঁড়ির মতো বাড়ে আহ্লাদের চইগাছ। ঘ্যাটকোল, খামআলু, সাতকরা হয়ে পড়েছে সাতটি তারার তিমির। এ পরবাসে রবে কে? স্মৃতির সকল রানিমাছেরা একদা নিশিহ্ন হলে হলুদ কালো ডুরে পাড় শাড়ি মৎসকন্যারাও দেশ ছেড়ে চলে যান বরাবরের মতো। জিহ্বায় লালিত স্মৃতি-স্বপ্নের তর্জমা তবু বুঝি বিস্মরণে যাওয়ার নয়।

মধুমতি, রূপসা ও হরেক নাম মুছে যাওয়া শতেক নদীতে আজও ছেঁড়া পালে ডিঙা বয়েছেন, মনীন্দ্র গুপ্ত, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, মনোজ মিত্র, বিভাস চক্রবর্তী, ধৃতিকান্ত লাহিড়ী চৌধুরী, প্রফুল্ল রায়, মণীভূষণ ভট্টাচার্য, সুজিৎ চৌধুরী, দিব্যজ্যোতি মজুমদার, মিহির সেনগুপ্ত, সদ্য প্রয়াত রবিশংকর বল, দিব্যজ্যোতি মজুমদার, রঞ্জন ঘোষাল, অমর মিত্র, মনীষা রায়, সুনন্দা শিকদার, কিন্নর রায়, বাসুদেব দেব, অমিতাভ মালাকার, আলপনা ঘোষ, রাজা সরকার, সুব্রত সেন, জয়িতা দাস, বিপুল দাস, সপ্তর্ষী বিশ্বাস, জাতবেদা মিশ্র, ঝর্ণা বসু, রঞ্জন রায়, জয়ন্ত ঘোষাল, সীমা গঙ্গোপাধ্যায়, রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সান্যাল, রূপঙ্কর সরকার, মানসী বন্দ্যোপাধ্যায়, মনীষা মুখোপাধ্যায়, পারমিতা দাস, স্বাতী রায়, সোমা মুখোপাধ্যায়, কস্তূরী মুখোপাধ্যায়, কুন্তলা বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বাতী বন্দ্যোপাধ্যায়, বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য ও আরও অনেকে। নিশ্চিহ্ন মাছগুলিকে আবার কেউ ছেঁড়ে দিয়েছেন জলে, কেউ আলপথে ডেকে ফিরছেন হারানো ধবলিকে, নানা দেশকালের নানা প্রান্ত থেকে সাড়া দিয়েছে তারা। শিকার করা পাখিগুলি আবার কিচিরমিচির খেলছে দুই খণ্ডের প্রশস্ত বাতায়নে। টুকরো স্মৃতি-গল্পে হদিশ পাই, আলো জ্বলে, ঢেউ খেলে কর্ণফুলি-কংসে। স্বাদ-গন্ধ-ধারা বহিছে ভুবনে।