আশমান জমিন
লেখক – সেলিম মল্লিক
প্রচ্ছদ ও অলংকরণ – শুভঙ্কর চক্রবর্তী
সম্পাদনা – সামরান হুদা
শিল্পনির্দেশনা – সায়ন্তন মৈত্র
বই নকশা – ময়াঙ্ক রাই
পৃষ্ঠা – ১১৮
ডিমাই সাইজ, হার্ড বাউন্ড, কাপড়ে বাঁধাই
মূল্য – ২৫০ ভারতীয় টাকা
ISBN – 978-93-87577-11-4

অনলাইন কিনতে – বইচই বা থিংকারস লেন
































স্মৃতিসন্দর্ভ কিংবা আত্মকথা বলা খুব-একটা ঠিক নয় এই বইয়ের লেখাদের। বরং ভাবা যেতে পারে, একটা পুরনো আয়নাতে একদিন সংক্রান্তির জ্যোৎস্নায় সহসা ভেসে উঠেছে পর পর কিছু অতীতদিনের ছবি, যা লেখকের জীবন-ঘেঁষে ছড়িয়ে রয়েছে— কিছুটা স্পষ্ট, কিছু-বা হারিয়ে ফুরিয়ে গেছে। লেখাগুলির প্রেক্ষাপটে জেগে এমন এক গ্রামসমাজ, যেখানে নিম্নবিত্ত কৃষিজীবী হিন্দু-মুসলমানের পাশাপাশি মিলমিশের বাস, যেখানকার বেশির ভাগ মানুষ আজও কথা বলেন না মান্য চলিত বাংলায়। ক-বছর আগে অবধিও ওই জনপদ থেকে সদরশহরে যেতে খরচ করতে হত অনেক সময় ও শ্রম। সহস্র অন্তরায়ের মাঝে জেগে আছে সবুজে মাখানো আশা, পরিবেশ এখনও প্রকৃতিলীন বৃক্ষনিবিড়, তার কিছু ছায়া টুকরো টুকরো লেখাগুলোকে শান্ত আর স্নিগ্ধ করেছে, ঘিরে রেখেছে বিধুর দৃষ্টির মতো। জনমানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস এই লেখার প্রাণ। এখানে ‘পথের পাঁচালী’র দর্শন আর অপুর বিস্ময় গরহাজির, কিন্তু অনাবিল কৈশোরক আনন্দ এই বইয়ের অন্তরঙ্গ চরিত্র, যা বিষয়সমূহকে সাজিয়েছে রূপের আর্তিতে। 

সেলিম মল্লিক

‘অবিবাহিতদের মধ্যে জ্ঞানী লোক নেই’— বশীরের ‘পাতুম্মার ছাগল’-এর ভূমিকার নির্বন্ধে জানা এই মহাবাক্যটির সূত্রে বলা যায়, ‘আশমান জমিন’ লিখেছেন যিনি, তিনি এখনও ‘মূর্খ’ এবং ‘অজ্ঞানী’। জন্ম ১৯৭৭ সালে, পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক মহকুমার এক পড়ন্ত গাঁয়ে। পিতৃকুলের মধ্যে প্রথম সাক্ষর, তা ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলবার মতো নয়। পানচাষ পারিবারিক জীবিকা। কিন্তু সেলিম নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন গ্রন্থনির্মাণ ও মুদ্রণসম্পাদনা। একটি ছোট প্রকাশনী চালান। ‘অস্ট্রিক’ পত্রিকার অন্যতম সম্পাদক। লেখেন মূলত কবিতা। প্রকাশিত কবিতার বই পাঁচটি। বর্তমান গ্রন্থ ছাড়াও একটি ক্ষুদ্র গদ্যের বই আছে। পেয়েছেন বৃষ্টিদিন ও কৃত্তিবাস পুরস্কার। বিচিত্র সব উদ্ভট পরিকল্পনা করতে করতে সময় নষ্ট করে দিতে ভালবাসেন, আর সেসব বাস্তবায়িত হবে না জেনেও ক্লান্ত হয়ে পড়েন না, কারণ, নিরন্তর কল্পনা অথবা ভাবুকতার সাহায্যেই অকৃতকর্ম হওয়ার হাত থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন। বিশ্বাস করেন, একমাত্র ভ্রমণের ভেতর দিয়েই ভ্রম কাটতে পারে। বিশেষ আকর্ষণ অনুভব করেন শুকনো নেশার প্রতি। 

আলোকচিত্র: অনির্বাণ মিশ্র